আমি আবার আসবো

আমি আবার আসবো
এ কে সরকার শাওন
 
 
আমি আবার আসবো;
আসবো শত জনম ধরে,
চিরচেনা প্রিয় প্রান্তরে।
ম্বপ্নচিলের ডানায় ভর করে
হাওয়ায় উড়ে উড়ে
এই মায়াময় শান্তির নীড়ে।

নামহারা বনফুল হয়ে
পথের প্রান্তে চুপ করে ফুটে
বসে থাকবো রেল-পথের ধারে।
প্রজাপতি হয়ে ডানায় সাত রং নিয়ে
মেঠাপথে বনে জঙ্গলে শাখায়-শাখে,
পতপত করে ঘুরে বেড়াবো
বরেন্দ্রভূমির শত বাঁকে বাঁকে।

মাছ হয়ে জলকেলী করবো
পাটুলে কিংবা হালতির বিলে
মুসাখার খালে কিংবা বিলশাহ’র জলে,
দিনে রাতে সকালে বিকালে।
সে আমাকে দেখে নিবে
মনের চোখ মেলে।

চিনিডাঙ্গার পদ্ম-ঝিলে
অসংখ্য পদ্ম হয়ে রং ছড়াবো।
তাঁর মনে খুশীর জোয়ার বইবে,
সে রূপালী হাসির ঝিলিক ছড়াবে,
মেঘকাল চুল উড়বে
শান্ত সৌম্য আধেক মুখ ঢেকে,
রংয়ে ঢংয়ে ঠমকে গমকে
গোলাপী চাদর উড়িয়ে
আকাশের পানে রং ছড়াবে
আকাশের ঠিকানায়;
আমি ঠিক খুঁজবো প্রিয়ায়!

শিমুলের কিংশুকের মগডালে
কাল কোকিলের বেশে আসবো ;
আমি বসন্তের মাতাল বাতাসে
এ মায়াকানন ভালবেসে।
হেমন্তেও আসবো আমি
যেমনটি আসবো গ্রীষ্ম-বর্ষায়,
শিউলি ফুলের আম্লান হাসির রেখায়,
ধূসর কাশ ফুলের ছোঁয়ায়,
নবান্নের নতূন ধানের ঘ্রানে
রাজাপুরের গ্রন্থমেলায়;
আসবো আমি বেলা অবেলায়।

শীতের সবুজ ঘাসের চাদরে
আমিই রবো কোমল শিশিরে।
আলতা রংয়ে পদ্মপায়ের
চূড়ির রিনিঝিনি নূপুরের নিক্কনে
আমি খুঁজে নিব প্রিয়ায়,
থাকুক সেই রাজকন্যা যতদূরে
যে কোন অন্তঃপুরের ঠিকানায়।

বাউলের বেশে দিগন্তবিস্তৃত
সবুজ অখন্ড ধানক্ষেতের আ’লে
মালঞ্চী ইয়াসিনপুর জংলী
রেল সড়কের লাল সেতুতে
আমি বার বার আসবো;
স্বর্গসম এইনা মায়াপুরীতে।

সাকামে গণ সংগীতে
সবার সাথে ঠোট মিলাবো,
চুপটি করে কোন প্রান্ত ঘেষে বসে,
“একটি অবাস্তব গল্প’ দেখে
কখনো হাসবো কখনো কাঁদবো
সবার সাথেই থাকবো ভালবেসে।

সজনী পার্কে, পদ্মার ধুধু বালুচরে
আত্রাই-নারদ নদীর জলে,
চিনিকলে, রানী ভবানীর চত্বরে
আমি আসবো ঘুরে ফিরে
তাঁর হাঁসির ছোঁয়া পেতে অন্তরে

জনম জনম ধরে।
 
 
আমি আবার আসবো
কাব্যগ্রন্থঃ আলো-ছায়া
এ কে সরকার শাওন
শাওনাজ, উত্তরখান, ঢাকা।