ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি বিমান চালুর আহ্বান

জনপদ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং বোয়িংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে সুসংহত করতে বেসামরিক বিমান চলাচলে দুই সরকারের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি ঢাকা ও নিউইয়র্কের মধ্যে পুনরায় সরাসরি বিমান চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সহযোগিতা চেয়েছেন।

ওয়াশিংটনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব সহযোগিতা চান। বুধবার (১৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানায়।

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলামের সম্মানে একটি ভার্চ্যুয়াল টাউনহল আলোচনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটিতে ইউএস চেম্বার অব কমার্সের কর্মকর্তারা, ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনীতিকরা এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

উপস্থিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উবার, শেভরন, জেনারেল ইলেকট্রিক, মেটলাইফ, অ্যাবট, বোয়িং, পেপ্সিকো, গুগল, ফেসবুক। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি নিশা বিসওয়াল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং কীভাবে বেসরকারি খাত দুদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে ভূমিকা রাখতে পারে তা তুলে ধরেন। তিনি করোনা মহামারিতে সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে উঠতে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বাংলাদেশের পণ্য বিশেষত তৈরি পোশাকের ওপর কর হ্রাসের বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম বাংলাদেশের জনগণের জন্য পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে মার্কিন সরকার এবং বেসরকারি খাত উভয়ের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন অনুদানের প্রশংসা করার পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত মতামত দেন।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে ভ্যাকসিন ক্রয় বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশের টিকাদান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। তিনি মার্কিন ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে ভ্যাকসিন রপ্তানির অধিকতর সুযোগ সৃষ্টি এবং এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে বিশেষ করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশের সুযোগ নিতে রাষ্ট্রদূত মার্কিন বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের আইটি পেশাদারদের জন্য এইচ১বি ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং বাংলাদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।