বাড়তি রোগীর চিকিৎসায় প্রস্তুত হচ্ছে রাজশাহী সদর হাসপাতাল

মাসুমা ইসলাম: রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রতিদিন বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। সেই সাথে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। তাই করোনায় শনাক্ত রোগী ও এর উপসর্গ নিয়ে নগরবাসীসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলার বিপুল সংখ্যক রোগী প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ফলে এসব রোগীর চাপ সামলাতে রিতীমত হিমশিম খাচ্ছেন রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা। বাড়তি রোগীর চাপে এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে করোনা চিকিৎসা সরঞ্জামাদির সংকট। পাশাপাশি প্রতিদিন বাড়তি নতুন রোগীর চাপ বাড়ায় দেখা দিয়েছে বেড, চিকিৎসক ও অক্সিজেন সংকট।

এছাড়াও যেসব রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন তাদের মধ্যে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে শুধুমাত্র মুমূর্ষু রোগীদের ভর্তি নেয়া হচ্ছে হাসপাতালে। বাকিদের বাড়িতেই হোম কোয়ারান্টাইনে থেকে চিকিৎসা নিতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এরপরও করোনা উপসর্গ নিয়ে রোগীরা ভর্তির আশায় আসছেন রামেক হাসপাতালে। তাই বর্তমানে একটি বেডের জন্য ২৬ জন রোগী অপেক্ষায় আছেন বলে জানিয়েছেন রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ শামীম ইয়াজদানী।

হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা এক হাজার ২০০টি। এর মধ্যে মোট ১১টি কোরোনা ওয়ার্ডে ২৩২টি শয্যা রয়েছে করোনা রোগীদের চিকিৎসায়। যা এরই মধ্যে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া মাত্র ১৮টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে রামেক হাসপাতালে। ফলে আইসিইউ শয্যার জন্য রোগীদের মাঝে হাহাকার দেখা দিয়েছে। তাই অতিরিক্ত ১নং ওয়ার্ডে আরও ৩২টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। এরপরও রোগীদের চিকিৎসা প্রদানে উদ্বেগ পেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

এদিকে রাজশাহীতে জনসাধারণের চলাচল ‍সীমিত করতে ও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ১১ জুন থেকে ১৭ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বাত্নক লকডাউন ঘোষনা করেছে জেলা প্রশাসক। প্রশাসনের নির্দেশে এসময় নগরীতে সকল দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এরপরও কমছে না করোনা সংক্রমণ। পরিস্থিতি ক্রমশ হয়ে উঠছে ভয়াবহ।

তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজশাহী সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট করোনা হাসপাতালে পরিনত করার ব্যাপারে গত ৬ জুন জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রাসিক মেয়র সহ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে এক বিশেষ বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সেন্ট্রাল অক্সিজেনসহ যাবতীয় সকল সুযোগ সুবিধা রামেক হাসপাতালে বেশি থাকায় অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য সদর হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে করে অন্যান্য বাড়তি রোগীদের চিকিৎসা প্রদানে সহায়তা হবে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনা মহামারি আকার ধারণ করেছে রাজশাহী বিভাগে। প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর চাপ সামলাতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে আমাদের। তাই করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলবে রামেক হাসপাতালে। অন্যদিকে অন্যান্য যেসকল রোগীরা ভর্তি হবেন তাদের চিকিৎসার জন্য ১০০ শয্যার রাজশাহী সদর হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হবে। তাই আমরা এরই মধ্যে সকল প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছি। সেগুলো পেলেই খুব শীঘ্রই হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হবে।