পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে : আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, আইজিপি বলেন, জনগণের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার বিভিন্ন আইনকে সংস্কারের মাধ্যমে যুগোপযোগী করেছে। জনগণকে আইনি সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীসহ সব সেবাপ্রত্যাশী জনগণের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে।

দেশের অভ্যান্তরিন শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন, মাদকের অপব্যবহার বিস্তার রোখে কার্য্যকর ভুমিকা পালন করতে হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতা আজ প্রশংসিত।

সোমবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৮তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে যখন আত্মীয়-স্বজনও ত্যাগ করে চলে গেছে, তখন দায়িত্বের বাইরে গিয়ে পুলিশ জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই করোনা মহামারীতে পুলিশ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এর আগে আইজিপি ৩৮তম বহিরাগত ক্যাডেট এসআই-২০২০ ব্যাচের এক বছর মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। প্যারেডে ৫৭ জন নারীসহ মোট ১ হাজার ২৩১ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্যারেড পরিদর্শন শেষে আইজিপি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন।

প্রশিক্ষণে ছেলেদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট নির্বাচিত হন তানভীর আহমদ। মেয়েদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট নির্বাচিত হন নাসরিন সুলতানা জ্যোতি। এছাড়া একাডেমিক বিষে কামরুল হাসান , প্যারেড বিষয়ে অলক বিহারী গুণ, পিটি ও বাধা অতিক্রম বিষয়ে আবদুল কাদির খন্দকার এবং মাসকেট্রি বিষয়ে নাজমুস সাকিব শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট হিসেবে নির্বাচিত হন।

এ সময় পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ খন্দকার গোলাম ফারুক, পুনাক এর সভানেত্রী বেগম জীশান মীর্জাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে আইজিপি একাডেমি চত্বরে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, ব্যারাক ভবন এবং একাডেমি মসজিদের বর্ধিতাংশের উদ্বোধন করেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন এবং তাদের সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন। আইজিপি একাডেমি চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জা, অতিরিক্ত আইজিগণ, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ, রাজশাহী বিভাগ ও জেলায় কর্মরত উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকগণ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।