ট্রেনের টিকিট নিয়ে যাত্রীদের বিড়ম্বনা

জনপদ ডেস্ক: করোনাসংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের নির্দেশে গত ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ের সব যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল। ২৪ মে থেকে আসনসংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে আবারও চাকা ঘোড়ে ট্রেনের। প্রথমদিনেই ২৮ জোড়া আন্তঃনগর এবং ৯ জোড়া মেইল এক্সপ্রেস ও কমিউটার ট্রেন ব্যবহার হয় যাত্রী পরিবহনে। আজ বুধবার (৯ জুন) সেখানে যুক্ত হয়েছে আরও ৯ জোড়া আন্তঃনগর এবং ১০ জোড়া মেইল এক্সপ্রেস ও কমিউটার ট্রেন।

এদিকে অনলাইনের পাশাপাশি মঙ্গলবার (৮জুন) থেকে শুরু হয়েছে কাউন্টারে টিকিট বিক্রি। তবে টিকিট কিনতে এসে যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। রেলওয়ে কাউন্টারে সার্ভার সমস্যাসহ নানা কারণ দেখিয়ে টিকিট সংকটের কথা বলছেন কাউন্টারকর্মীরা। কিন্তু যাত্রীরা এসব মানতে নারাজ। তারা বলছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে টিকিটের সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

রুবেল আলী রাব্বী নামে এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, “৪টি টিকিটের জন্য ৫দিন আগে সকাল ৬টায় অনলাইনে অনেক চেষ্টা করে দুইটা টিকিট পেলাম। যাবো নাটোর, কিন্তু টিকিট পেলাম ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের। আরও দুইটার চেষ্টা করতে গেলে মুহূর্তেই সার্ভার পুরোটাই ব্লক। স্টেশন বাই স্টেশন চেষ্টা করতে থাকলাম কিন্তু টিকিট পেলাম না।”

ট্রেনের দুর্নীতি ও অসততার কথা উল্লেখ করে ওই যাত্রী আরও বলেন, “আমি শুনেছি ত্রিশ হাজার ক্লিক একসঙ্গে করা যায়। চিন্তা করেন, একসাথে যদি ত্রিশ হাজার লোক সার্ভারে ক্লিক করে তাহলে ত্রিশ হাজার লোক বিকাশ/রকেটে কীভাবে পেমেন্ট করে, সেটার পিনের কোড কতটুকু পাওয়া যায়? কত সময় নিয়ে সেটা রিপ্লেস করে এবং সেটা সেভ করে প্রিন্ট দেওয়া লাগে বা মেইল আসে।”

দুর্নীতির উদাহরণ দিয়ে যাত্রী বলেন, “রেলওয়ের এক ব্যক্তি এডমিনে চাকরি করে পরিচয় দিয়ে আমাকে বললেন, তিনি চাইলে আমার সিটে অন্যকে বসাতে পারবেন। তখন আমি বললাম, আমার ইমেইল, আমার বিকাশ, আমার পাসওয়ার্ড, আমার ট্রানজেকশান আইডি, আমি নিজে জার্নি করব তাহলে আপনি কীভাবে বলছেন আপনি চাইলে আমার জায়গায় আরেকজনকে নেবেন?”

টিকিট বিড়ম্বনা নিয়ে আরও এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, “আমি দিনাজপুর যাবো। টিকিটের জন্য এলে কাউন্টারের লোকরা কোনো সদুত্তর দিচ্ছে না। শুধু বলছে, কাউন্টারে টিকিট নেই।”

টিকিট বিড়ম্বনার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ার জাগরণকে বলেন, “অনলাইনে টিকিট ছাড়া হয় ভোর ৬টায় আর কাউন্টারে সকাল ৮টায়। দেখা গেলো, ওই সময় ৪০০ লোক সার্ভারে টিকিট কিনতে এপ্লাই করছে। মনে করেন, টিকিট আছে ৭০০। তার ৫০ শতাংশ সাড়ে তিনশ। তার মধ্যে ৫০ শতাংশ অনলাইনে, বাকি থাকলো ১৭৫। তো এটার মধ্যে আবার বিভিন্ন শ্রেণির। এখানে একসাথে ৪০০ লোক যদি ট্রাই করে তাহলে বিষয়টা কী হবে ভাবেন। আসন সীমিত কিন্তু চাহিদা বেশি।”

কালোবাজারে টিকিট বিক্রি নিয়ে স্টেশন ম্যানেজার বলেন, “আমাদের এখানে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। তাছাড়া কালো বাজারে টিকিট বিক্রির সুবিধা একেবারে নেই বললেই চলে। পুরো জায়গাটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বেষ্টিত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে।”

করোনা মহামারির ভেতর ভ্রমণ প্রসঙ্গে ম্যানেজার বলেন, “অনেকে দেখা যাচ্ছে বেড়াতে যাচ্ছেন, ঘুরতে যাচ্ছেন, এগুলো আমরা নিরুৎসাহিত করছি।”

রেলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল হক জাগরণকে বলেন, “অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন এখানে আইন-শৃঙ্খলা অনেক ভালো। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে, স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারে, সে জন্য আমরা সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি। সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে যাত্রীরা চলাফেরা করে সেটা নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”