টিকা নিয়ে দ্রুত বিশেষ কর্মপরিকল্পনার তাগিদ

জনপদ ডেস্কঃ করোনা সংকট মোকাবিলায় এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ টিকা সংগ্রহ। যেহেতু কোনো দেশের সঙ্গে টিকা কেনার চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি তাই এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দ্রুত টিকা নিয়ে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে তা বাস্তবায়ন দরকার।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে আনা অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার মজুদ বলতে গেলে শেষ। হাতে আছে সিনোফার্মের সাড়ে চার লাখ ও ফাইজারের এক লাখ ডোজ। আর চীন থেকে সপ্তাহখানেকের মধ্যে আসছে আরও ছয় লাখ ডোজ টিকা। যদিও উপহারের এমন ছোটখাটো চালান আমলে নিতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে টিকায় আওতায় আনার একমাত্র সমাধান ক্রয় করা। স্বল্পমেয়াদি এই পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশেই রিফিল ও নিজস্ব উদ্ভাবনের তাগিদ তাদের।

বিএসএমএমইউয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সায়েদুর রহমান খসরু বলেন, দ্রুত মহামারি থেকে উত্তরণে দরকার ভ্যাকসিন ক্রয় করা। এরপর দরকার ভ্যাকসিন মানে কো প্রোডাকশন বলছি যাকে, কারো সঙ্গে সহযোগী হয়ে উৎপাদন করা। এটা হচ্ছে একটা মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা। দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে উদ্ভাবন করা। এতএব ক্রয়, উৎপাদন ও উদ্ভাবন করা তিনটি কাজ ধারাবাহিকভাবে একসঙ্গে শুরু না করলে আমরা আসলে এটা থেকে মুক্ত হতে পারবো না।

পাশাপাশি কেবল টিকা নিয়েই একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়ে তারা বলছেন, এর মাধ্যমে টিকা প্রাপ্তি ও সম্ভাব্যতা যাচাই আরও গতিশীল হবে।

টিকা পর্যালোচনা বিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্য নাইট্যাগ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, টিকা নিয়ে আসলে আমরা কী করতে যাচ্ছি তার জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা করা দরকার। ১২ থেকে ১৩ কোটি মানুষের জন্য টিকা সংগ্রহ বিশাল কর্মযজ্ঞ। তার জন্য একটা বড় অর্থ লাগবে এবং এই অর্থ অনেকটা রেডি থাকার মতো থাকতে হবে।

ভারত থেকে টিকা রপ্তানি বন্ধের ফলে প্রথম ডোজ নেওয়া প্রায় সাড়ে চৌদ্দ লাখ মানুষের দ্বিতীয় ডোজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।