বিপৎসীমার উপরে মুহুরী নদীর পানি, বাঁধে ভাঙন

জনপদ ডেস্কঃ দুই দিনের বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপে সদর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুরে মুহুরী নদী বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, রোববার (৬ জুন) দিনগত রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই এলাকার হানিফের বাড়ির পাশে বাঁধ ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। ভাঙনের আকার আরও বড় হতে পারে। বাঁধ ভেঙে জনপদ ও ফসলি জমিতে পাহাড়ি পানি ঢুকে পড়েছে।

সন্ধ্যার দিকে ফুলগাজীর ঘনিয়ামোড়া, দৌলতপুর, পরশুরামের শালধর ও স্টেশন এলাকা পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আখতার হোসেন মজুমদার।

পরিদর্শন শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জানান, রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পরিদর্শনকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রোববার বিকেল থেকে ফুলগাজী বাজারসহ ও আশেপাশের এলাকায় দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে। গত বছর ফুলগাজী এলাকার মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ একাধিকবার ভেঙে মানুষের দুর্ভোগ ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

আখতার হোসেন মজুমদার জানান, গত বছর এ তিন নদী সংলগ্ন ৫টি এলাকার ২৭টি স্থানে বাঁধ ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিক মেরামত কাজে প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

স্থানীয় জনসাধারণ বলছেন, বাঁধ সংস্কার সেসময়ে সাময়িক রক্ষা হলেও এখন আবার ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে করে আবারও অন্যান্য বছরের ন্যায় সম্পদহানি ঘটতে পারে। ফুলগাজী ও পরশুরাম অঞ্চলকে বাঁধ ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে স্থায়ী সমাধানে ৮৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনার কথা গত বছর ঘটা করে জানিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এ প্রসঙ্গে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আখতার হোসেন মজুমদার জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পটিতে দু’টি সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন সংশোধিত ৭৩২ কোটি টাকার প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অপেক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে রয়েছে। তবে কবে থেকে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে, সে প্রসঙ্গে তিনি কিছু বলতে পারেননি।