রাজশাহীতে করোনায় আরও ৬ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসের ৬ দিনে এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেলেন ৫৩ জন।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, মারা যাওয়াদের মধ্যে দু’জনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আইসিইউতে দু’জন, ৩নং ওয়ার্ডে একজন, ১৬ নম্বরের দু’জন ও ২৯ নম্বরের একজন। এদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩ জন এবং রাজশাহী, নাটোর ও চুয়াডাঙ্গার একজন করে।

এ নিয়ে চলতি মাসের ৬ দিনে (১ জুন সকাল ৬টা থেকে ৬ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত) এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেলেন ৫৩ জন। এর মধ্যে ৩৫ জনই মারা গেছেন করোনা শনাক্ত হওয়ার পর। এর মধ্যে ১ জুন সাত জন, ২ জুন সাত জন, ৩ জুন নয় জন, ৪ জুন ১৬ জন, ৫ জুন ৮ জন ও সর্বশেষ ৬ জুন ছয় জন।

ডা. সাইফুল জানান, রাজশাহীতে সংক্রমণ ও রোগির সংখ্যা বেড়েছে। রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৩৫ জন। যা আগের দিন শনিবার ছিল ২২৪ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৩৫ রোগির মধ্যে রাজশাহীর ১০৮ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯৯ জন, নওগাঁর ১০, নাটোরের ১০, পাবনার ছয়জন ও কুষ্টিয়ার দু’জন। এদের মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ১৬ জন।

এছাড়াও গত ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হয়েছে ৩০ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ১৮, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আটজন, নওগাঁর তিন ও নাটোরের একজন।

তিনি আরও বলেন, এ হাসপাতালে করোনা ইউনিটের শয্যা রয়েছে ২৩২টি। কিন্তু রোগি ভর্তি আজেন ২৩৫ জন। বাকিদের মেঝেতে রাখা হয়েছে। এছাড়াও আইসিইউ বেড রয়েছে ১৭টি। ১৬টিতে রোগী আছে, একটি বেড ভিআইপিদের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে।

হাসপাতালে আরও ৫০ জনের বেশি রোগি রয়েছেন যাদের আইসিইউ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

ডা. সাইফুল বলেন, শনিবার দুই ল্যাবে ৫৪২ জনের নমুনা পরীক্ষার ২৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর ৩৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৮৪ জনের পজিটিভ এসেছে। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০৮ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে।

এদিকে রাজশাহীতে ১০০ শয্যার করোনা হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সদর হাসপাতাল সংস্কার করে সেন্টাল অক্সিজেন সার্ভিসসহ করোনা হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যার অংশ হিসেবে অবকাঠামো পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী।