মামুনুলের কাছে প্রতি মাসে বিশাল অঙ্কের ‘অনুদান’ আসত

জনপদ ডেস্ক: তথাকথিত ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার নামে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল হেফাজতের সাবেক নেতা মামুনুল হকের। আন্দোলনের নামে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করতে মামুনুলের কাছে প্রতি মাসে বিশাল অঙ্কের ‘অনুদান’ আসতো বলেও জানা গেছে।

পাশাপাশি কথিত স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে তথাকথিত ‘মুতাহ’ বিয়ের নামে ধর্ষণ করারও সত্যতা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ১৮ দিনের রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল এসব স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম।

রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং এসব তথ্য জানিয়েছেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আরো জানিয়েছেন, রিমান্ডে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি মামুনুলের কাছে। রিমান্ডে দেয়া মামুনুলের বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়া বা খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার উচ্চাভিলাস প্রতীয়মান ছিল। তবে বিশেষ করে মামুনুল হকের অভিলাস ছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার। হেফাজত সম্পর্কেও তিনি অনেক তথ্য দিয়েছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠনের উগ্রবাদী নেতারা হেফাজতে যোগ দিয়ে একটি প্লাটফরম তৈরি করেছিল। এদের মূল টার্গেট ছিল রাজনৈতিক ফায়দা লুটা। তার উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে হরতালের নামে নাশকতা হয়েছিল এবং এ নাশকতার পেছনে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলেও জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল স্বীকার করেছেন।

অপরদিকে, রিসোর্ট কাণ্ডে মামুনুলের কথিত স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে ধর্ষণ করার অভিযোগটিরও সত্যতা পেয়েছি আমরা। পুলিশ সুপার জানান, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাটি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। সেই মামলায় জান্নাত আরা ঝর্ণা যে বক্তব্য দিয়েছে সেই বক্তব্যের সঙ্গে আমরা তাকে (মামুনুলকে) জিজ্ঞাসাবাদে সত্যতা পেয়েছি। কারণ মামুনুল হক দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও দায়ের করা মামলায় জান্নাত নিজেকে মামুনুল হকের স্ত্রী বলেননি। জান্নাতকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করলেও বিয়ের সাক্ষী, কাবিননামা দেনমোহর এমন কি কোনো লিখিত কিছুই মামুনুল হকের কাছে নেই। তার একাধিক বাড়ি-ঘর ও বিপুল পরিমাণ সম্পদ সম্পর্কেও আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিন্তু যার কোনো আয়ের উৎস তিনি দেখাতে পারেননি।

পুলিশ সুপার আরো জানান, তদন্তে ও জিজ্ঞাসাবাদে অনেকের নাম এসেছে। আমরা সেগুলো যাচাই বাছাই করছি।

প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল মামুনুল হকের সমর্থরা সোনারগাঁ রিসোর্টে এবং যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করে। মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তার সমর্থকরা। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হককে আসামি করে একাধিক মামলা হয়েছে। সেই মামলায় পলাতক ছিলেন মামুনুল হক। রির্সোট বুকিংয়ে মামুনুল হক তার প্রথম স্ত্রী আমেনা তৈয়বার নাম লেখেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। ফোনালাপে তিনি ঝর্ণাকে প্রথমে শহিদুলের স্ত্রী বলে জানালেও পরে নিজের স্ত্রী হিসেবেও দাবি করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট