চাঁপাইনবাবগঞ্জে কঠোর লকডাউনেও সংক্রমণ ৪০ শতাংশ

জনপদ ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ‘কঠোর লকডাউন’ চললেও সংক্রমণ এখনও ৪০ শতাংশের উপরে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে শহরে ‘লকডাউন’ কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে।

কিন্তু গ্রামে জনগণ সচেতন না হওয়ায় স্বাস্থবিধি ভাঙার প্রবনতা লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২১৭টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৪৯টি এবং করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪২ জন। যা শতকরা ৪০.৬৮ শতাংশ।

স্থানীয় স্বাস্থ্যবিভাগের তথ্যে দেখা গেছে, ২য় দফা লকডাউন চলাকালেও করোনা সংক্রমণ কমেনি। বাড়ছে প্রাণহানিও। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো প্রাণহানি না থাকায় জেলায় করোনায় মোট মৃত্যু ৫৪ জন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বর্তমানে করোনা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৭১ জন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ২৪৮৯ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ভারত থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে মোট ৯৪ জন। এর মধ্যে ২৪ জনকে কোয়ারেন্টিন থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। জেলায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৬৪ জন। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৫৮ দশমিক ৮১ শতাংশ।

পরিসংখ্যান মতে ১ম দফা ‘লকডাউনে’ ৩০ মে শতকরা ৩৩.৬৯, ৩১ মে শতকরা ১০, দ্বিতীয় দফা ‘লকডাউনে’র প্রথম দিন ১ জুন শতকরা ৫৩, বুধবার ২ জুন শতকরা ৪৩, বৃহস্পতিবার ৩ জুন শতকরা ৪২, শুক্রবার ৪ জুন শতকরা ৫৫ এবং ৫ জুন শনিবার সংক্রমণের হার ছিল ৪০.৬৮ ভাগ।

এদিকে গত ৩০ মে প্রাণহানি ৩২ জন থাকলেও গত ৬ দিনে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে।

কঠোর ‘লাকডাউন’ চললেও করোনা সংক্রমণের হার না কমায় এবং ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ‘ডেলটা’ ভাইরাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগী শনাক্ত বেড়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত জেলার সচেতন মহল।

অপরদিকে ‘লকডাউন’ বাস্তবায়ন করতে ১৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭০ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেছে। ‘লকডাউনে’ দূরপাল্লার ও আন্তঃজেলা বাস ও ট্রেনসহ যানবাহন বন্ধ রয়েছে। মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। আম বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি কার্যক্রম ‘লকডাউনে’র আওতামুক্ত রেখে যথাসম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মঞ্জুরুল হাফিজ গত ২৫ মে থেকে প্রথম দফা সাত দিন এবং পরে সংক্রমণ না কমায় ৩১মে দুপুরে এক প্রেসব্রিফিংএ ৩১ মে দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৭ জুন মধ্য রাত পর্যন্ত ২য় দফা ‘লকডাউন’ বাড়ানোর ঘোষণা দেন।