চাঁপাইনববাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলমান বিশেষ লকডাউনের ১৩ তম দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষঞ্জ,আইইডিসিআর সাবেক পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। রোববার(৬’জুন) দুপুরে তিনি হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট চিকৎসক ও সংশ্লিস্টদের সাথে সভা করেন।

সভা শেষ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,কোভিড মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সচেতনতার বিকল্প নেই। অবশ্যই সকলকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। জেলাবাসীকে ধৈর্য়্য ধারণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,জেলায় সংক্রমণের হার স্থিতিশীল। এসময় ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দেননি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,যিনি আক্রান্ত হন তিনি তো আর জানেন না তিনি কোন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। ভ্যারিয়েন্ট বিষয়টি পলিসি  যারা নেয় তাদের জন্য। লকডাউনের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবে বলেও তিনি জানান।

তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোভিড চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা হবে বলেও জানান। এ সময় রাজশাহীর স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক,সিভিল সার্জন,হাসপাতালের তত্বাবধায়ক,আরএমও, চিকিৎসক নেতা সহ সংশ্লিস্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার  সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও  সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন এবং কোভিড-১৯ কালীন বন্দরে সংশ্লিষ্ঠদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমন্বয় সভা করেছেন ডা.ফ্লোরা। তিনি বন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারী অপারেটর প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেড সভাকক্ষে সমন্বয় সভায় অংশ নেন।

কোভিড নিয়ন্ত্রণ  ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শমূলক আলোচনা করে তিনি বলেন, যতটুকু দেখেছি তাতে সীমান্ত এলাকায় খুবই সংগঠিতভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। তিনি বন্দরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায়  ও জেলায় লকডাউন পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা.সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল,সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী,উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব-আল-রাব্বি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি  শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা (কোভিড-১৯) শনাক্তের হার গত শনিবার (৫’জেুন) ছিল ৪০.৬৮ শতাংশ। ওইদিন জেলাব্যাপী আরটি-পিসিআর,জিন এক্সপার্ট ও র‌্যাপিড এন্টিজেন টেষ্টে ৩৪৯টি নমূণায় ১৪২ জন শনাক্ত হন। এর আগের দিন শুক্রবার(৪’জুন) শনাক্তের হার ছিল ৫৫.১৫ শতাংশ।অর্থাৎ একদিনে শনাক্তের হার প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। অবশ্য এর আগে গত বৃহস্পতিবার(৩’জুন) শনাক্তের হার ছিল ৪১.৬০ শতাংশ। সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান,ঈদের পর জেলায় শনাক্তের হার বেড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ হয়। এরপর স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রচারণা,কড়াকড়ি আরোপ সর্বোপরি দু’দফা ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের শেষ পর্যায়ে শনাক্ত হার নি¤œমূখী হয়েছে। জেলায় প্রতিদিনই প্রচুর নমূণা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন বলেন,বিশেষ লকডাউনের ১ম ৭দিনে(২৫মে থেকে ৩১ মে) জেলায় শনাক্তের হার ছিল ২০.০৭ শতাংশ। আর গত ১মার্চ ২০২০ থেকে গত শনিবার পর্যন্ত জেলায় শনাক্তের হার ১৯.১৭ শতাংশ।সিভিল সার্জন আরও জানান,জেলায় গত শনিবার পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৮৯ জন। সূস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৬৪ জন। এর মধ্যে গত শনিবার রেকর্ড ২৪৩ জনকে সূস্থ ঘোষণা করা হয়। গত শনিবার ৯৭১ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদিকে ওই সময় অর্থাৎ করোনা শুরুর পর থেকে জেলায় মারা গেছেন ৫৪ জন পজিটিভ রোগী। এর মধ্যে ৪০ জন মারা গেছেন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে।