রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর মোড় ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফুটপাত সাধারণত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য করা হয়। কিন্তু পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের উদ্দেশে ফুটপাত তৈরি করা হলেও এগুলোর বেশিরভাগই ব্যবহার হচ্ছে মালামাল রাখার কাজে। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে কেউ যদি রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর এর ফুটপাত ব্যবহার করতে চান, তবে সেটি পথচারীর জন্য হবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সেখানে হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ভয় বেশি।

সাহেব বাজারের পর রাজশাহী নগরে দ্বিতীয় ব্যস্ততম এলাকা হচ্ছে লক্ষ্মীপুর। এখানে রয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। আর এই হাসপাতাল ঘিরে লক্ষ্মীপুর মোড়ে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ক্লিনিক। তাই এই এলাকায় চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।

লক্ষ্মীপুর মোড়েই অবস্থিত লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের গেটের সামনে থেকে শুরু হয় রাস্তার ওপর দোকান বসানো। তখন মোড়ের ওপর জট বেঁধে যায় মানুষের। শুধু দোকান আর মানুষই নয়, রাস্তার ওপর পাল্লা দিয়ে রাখা হয় মোটরসাইকেল। এগুলো বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের। সব মিলিয়ে একটা জগাখিচুড়ি অবস্থা লেগে থাকে এই মোড়ে। ফুটপাতেরও করুণ দশা। ফুটপাতের পাশ দিয়ে চলে গেছে ওষুধের দোকান আর খাবার হোটেলের সারি। হাসপাতালের সামনের ফুটপাত দখল করে এসব দোকান বসিয়েছেন একশ্রেণির ব্যবসায়ী।

ফুটপাত ব্যবসায়ী রমজান বলেন, তারা ব্যবসায়িক সমিতিকে একটি মাসিক ভিত্তিক ভাড়া দেন।তিনি আরো বলেন করোনার আগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের থেকে দোকান উচ্ছেদ করে দেয়।বেশ কিছু দিন পর তিনি পুনরায় দোকান দেন।

লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নুসরাত জাহান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, করোনা মহামারির আগে স্কুল ছুটির সময় তারা ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কোন উপায় থাকেনা অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয় লক্ষ্মীপুর মোড় পাড় হতে।

রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর বড় বোন জানান, ফার্মেসী থেকে তৎক্ষণাৎ কোন ঔষধ নিতে গেলে ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় পোহাতে হয় বেহাল দশা।

জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বলেন, আমরা অবৈধ সব দোকান উচ্ছেদ করি এখন আপাতত করোনা ভাইরাসের জন্য সব উচ্ছেদ অভিজান বন্ধ রয়েছে অবস্থা স্বাভাবিক হলে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালু করা হবে।