মমতার সম্মানে উপনির্বাচনে প্রার্থী দেবে না কংগ্রেস

জনপদ ডেস্কঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বরাবরই রাজ্য–রাজনীতিতে মমতা বিরোধী হিসেবে পরিচিত রাজ্যের কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনিই এবার ঘোষণা দিয়েছেন যে,  রাজ্যের আসন্ন উপনির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে কোনও প্রার্থী দিতে চান না। ওই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে। আর মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেখানে প্রার্থী হচ্ছেন। আবার ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসের জয়ের তেমন কোনও সম্ভাবনাও নেই।

এ বিষয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী নিজে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন। এই অবস্থায় আমার মনে হয় আমাদের প্রার্থী দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।’‌

প্রসঙ্গত, সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ভূমিধস জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে। কিন্তু নন্দীগ্রামে অল্প সংখ্যক ভোটে হেরে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও ওই নির্বাচন নিয়েও নানা বিতর্ক হয়েছে। ইভিএম মেশিন অকেজো হওয়া ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকিসহ নানা বিষয় আলোচিত হয়েছে। তারপরও যেহেতু বড় জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সেজন্য ওই আসনের নির্বাচন নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন তিনি ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এ আসনটি মমতার নিজের আসন। বারবার তিনি এখান থেকে জয়ী হন।

এদিকে সদ্য সমাপ্ত এ নির্বাচনে চরম ভরাডুবি হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম প্রাচীন দল কংগ্রেসের চরম ভরাডুবি হয়েছে। একটি আসনও তারা পায়নি। এটা অধীর চৌধুরীর অতিরিক্ত তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধিতার ফল বলে মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান কেন্দ্রীয় নেতা বীরাপ্পা মইলি।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়,  এখন অধীররঞ্জন চৌধুরীকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চিঠি জমা পড়েছে দিল্লিতে। এই চাপের মধ্যেই একেবারে অন্যরকম সুর শোনা গেল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর গলায়। উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দিয়ে সম্মান জানানোর কথা বললেন তিনি। যা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে নতুন কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক কুশীলবরা।

কংগ্রেসের একটা সূত্র বলছে, এটা অধীরের একটা চাল। নিজের গদি বাঁচাতে এই পদক্ষেপ করছেন তিনি। যদি সত্যিই সম্মান জানাতে হয় তাহলে তিনি কেন জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন না। সংযুক্ত মোর্চার সঙ্গে জোট ছিন্ন না করে এমন ঘোষণা দেয়া মমতার প্রতি সম্মান জানানো নয়। এটা তার রাজনৈতিক কৌশল।  কারণ, কংগ্রেস প্রার্থী না দিলেও সংযুক্ত মোর্চার তরফ থেকে তো প্রার্থী দেওয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ?

এখন রাজ্য–রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠছে, অধীরের মমতার প্রতি এই ‘সম্মান’ প্রদর্শন কেন? তাহলে কী রয়েছে এআইসিসি নেতাদের চাপ?‌ ২০২৪ সালে নয়া সমীকরণ তৈরি হচ্ছে?‌

আনন্দবাজার পত্রিকার বিশ্লেষনে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বিজেপিকে রুখে দিয়েছে তাতে জাতীয় রাজনীতিতে তার গুরুত্ব বেড়েছে। দিল্লির কংগ্রেস নেতারা চাইছেন, কেন্দ্রে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে মমতার সঙ্গে হাত মেলাতে। আবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে প্রমাণ করেছে অধীরের প্রবল মমতা বিরোধী অবস্থান পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনেও ভরাডুবি হবে। তাই মমতার উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়ে রাখতে চাইছেন কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব বলে মনে করা হচ্ছে।