বাহারি রঙের ফুলে হাসছে রাজশাহী নগরী

মাসুমা ইসলাম: চলছে গ্রীষ্মকাল। আর এই গ্রীষ্মকালেই প্রকৃতির কল্যাণে হরেক রঙের বাহারি ফুলে সেজে উঠেছে পুরো রাজশাহী মহানগরী। এ যেন এক সবুজের নগরী, শান্তির নগরী। রাস্তার আইল্যান্ডে ফুটে থাকা লাল, নীল, হলুদ, সাদা, গোলাপিসহ নানা বর্ণের ফুলগুলো প্রখর রোদেও মানুষের চোখকে দিচ্ছে প্রশান্তি আর মনকে করছে প্রফুল্ল। করোনা মহামারির এ সময়ে নগরীর এমন অপার সৌন্দর্যে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন পথচারীসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ।

এছাড়া ফুলে ফুলে ঘুরে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছিরা। সবমিলিয়ে কর্মব্যস্ত এই ইট-পাথরের শহরে এ এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমী নগরবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে নগরীর রাস্তার পাশে ও আইল্যান্ডজুড়ে ফুটে আছে কৃষ্ণচূড়া, জারুল, কাঠ গোলাপ, টগর, দোলনচাঁপা, রঙ্গন, নয়নতারা, বেলী, কবরী, বাগানবিলাস, সূর্যমুখী, মুসান্ডা, এ্যালামন্ডা ও সোনালুসহ বাহারি সব ফুল। আর ফুটে থাকা ফুলগুলো যখন নির্মল বাতাসে দোল খাচ্ছে তখন দেখে মনে হয় যেন হেসে উঠছে পুরো নগরীর প্রকৃতি। সেই সাথে আপন বৈচিত্রে ও সুবাসে মাতিয়ে রেখেছে চারপাশ।

নগরীর এসব ফুল গাছগুলো একদিকে যেমন রক্ষা করছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য অন্যদিকে নগরীর সৌন্দর্য বাড়িয়ে করেছে দিগুণ। তাই নগরীকে সবুজে ভরিয়ে তুলতে ‘জিরো সয়েল’ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। পাশাপাশি নিয়মিত চলছে এসব গাছের সার্বিক পরিচর্যার কাজ।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রথমবার মেয়র থাকাকালে সবুজের মহানগরীতে পরিণত করাসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাব ঠেকাতে এবং শহরের রাস্তা ও ফুটপাত বাদে ফাঁকা জায়গাগুলো সবুজ গাছে ঢেকে দিতে ‘জিরো সয়েল’ প্রকল্প গ্রহণ করেন তিনি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে সবুজ ও বিচিত্র ফুলের সমাহারে নতুন রূপ পেয়েছে নগরী।

এদিকে নগরীর এমন সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ ঘুরতে আসছেন রাজশাহীতে। ফলে এরই মধ্যে দেশের অন্যান্য নগরীর কাছে অনুকরনীয় হয়ে উঠেছে এই বিভাগীয় শহরটি।

সোহেল হাসান নামে এক পথচারী বলেন, নগরীর অনেক উন্নয়ন করেছে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। একদিকে সকল রাস্তা প্রশস্তের কাজ চলছে অন্যদিকে রাস্তার মাঝে ফুটে থাকা ফুলগুলো অনেক ভালো লাগে। এটা বদলে দিয়েছে পুরো নগরীর চিত্র।

এছাড়াও দিনাজপুর থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী তানভীর বলেন, শিক্ষা নগরী হিসেবে তো রাজশাহীর খ্যাতি আছে। কিন্তু এর সবুজে ভরা সুন্দর রাস্তা, পদ্মা পাড়ের সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সত্যিই মুগ্ধ করে, মনকে প্রশান্তি দেয়। তাই দূষণমুক্ত এই শহরে বারবার ছুটে আসি বেড়াতে।

নগরীর সবুজায়নে চলমান কার্যক্রম ও পরিকল্পনা সম্পর্কে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পরিবেশ কর্মকর্তা মাহমুদ জানান, গতবছর মুজিববর্ষ ও সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সিটি কর্পোরেশন মেয়রের নির্দেশনায় নগরীর বিভিন্ন রাস্তার লেনগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির হরেক রঙের ছোট-বড় সৌন্দর্য বর্ধনকারী ৫০২৭১টি ফুলের গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং আগামীতেও প্রতিটি মৌসুমেই এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। এবং এসকল গাছের পরিচর্যা সিটি মেয়র নিজে তদারকি করেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, নতুন এবং পুরাতন সকল রাস্তা ও ফাঁকা জায়গায় বাহারি ফুলের গাছ রোপন করা হবে। এরই মধ্যে যেসব গাছ রোপণ করা হয়েছে তা ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে। এতে নগরীর সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।