লকডাউনের প্রভাবে চরম ক্ষতির মুখে আম ব্যবসায়ীরা

প্রধান প্রতিবেদক: রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের ভরা মৌসুমে চলমান লকডাউনে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা। গাছে আম পেকে গেলেও তারা তা পেড়ে বাজারে আনতে পারছেন না। জেলার কোন আমবাজারই ভালভাবে বসতে পারে নি।

গত রোববার (৩০’মে) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম আমবাজার সদরের পুরাতন বাজার (সদরঘাট বা তহাবাজার নামে পরিচিত) ঘুরে দেখা গেছে হতাশাজনক চিত্র। বাজারে কিছু খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতা নেই।

প্রতি বছরই বাজারের আম বিক্রয়কারী নিকটের মসজিদপাড়া মহল্লার মো.আলাল(৩৮),শফিকুল ইসলাম ছোটন(৩৭), আবদুল্লাহ ফল ভান্ডারের আশরাফুল(৩৩) জানান, বাজারে বাইরের তেমন কোন পাইকার নেই। তারা অভিযোগ করেন, জেলার আম বিক্রেতা ও ক্রেতারাই ঠিকমত বাজারে আসতে পারছেন না। সড়কে সড়কে প্রতিবন্ধকতা। গাড়ি এমনকি ভ্যান, রিক্সার মত ছোট যানবাহনও আটকে দেয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার জমতেই পারছে না।

তারা বলেন, এসময় যেখানে গোপালভোগ আম ২ থেকে আড়াইহাজার টাকা মন হবার কথা তা এখন ১ হাজার ২ শত থেকে ১ হাজার ৪শত টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে। কেবল বাজারে আসতে শুরু করা দেশসেরা ক্ষীরসাপাত(হিমসাগর) আমের দাম আরও কম।

এছাড়া বাজারে রয়েছে ক্ষুদি ক্ষীরসা,বৃন্দাবন জাতের মত কিছু গুটি জাতের আম। এ গুলি প্রাপ্য মূল্য পাচ্ছে না। বাজার পর্যায়ে দামের এই অবস্থায় বাগান পর্যায়ে অবস্থা আরও শোচণীয়। বিক্রেতা ও সংশ্লিস্টরা এই পরিস্থিতিতে আমের ব্যাপারে প্রশাসনের যে ছাড়ের ঘোষণা রয়েছে তা বাস্তবায়নের দাবী জানান।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোজাফফর হোসেন ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমের ব্যাপারে পুরো ছাড় রয়েছে। কিন্তু আমের কোন গাড়িতে মানুষ বহন করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না। তবে বিষয়টি আরও সতর্কতার সাথে দেখার আশ্বাস দেন ওসি।

এদিকে খোঁজনিয়ে জানাগেছে রাজশাহী জেলার প্রধান আমের বাজার বানেশ্বরেও অন্যান্য বছরের মতো ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট হতে যেসব পাইকারী ব্যবসায়ীরা এসে আম ক্রয় করে নিয়ে যেতো তাদের দেখা মিলছে খুবই কম। ফলে আম ব্যবসায়ী বা মলিকদের আম বিক্রয়ে যে পরিমাণ মুনাফা লাভের আশা করেছিলেন সেই আশা পূরণ হচ্ছে না।

আম ব্যবসায়ী ইসরাইল জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে দ্বিতীয় শ্রেণীর ঢাকার কোচ গুলোতে ঢাকাগামী যাত্রীর সাথে সাথে গাড়ীর ছাদে বা বক্সে আম পরিবহন করতো । সেই সব গাড়ী গুলো সচারচর চলতে না পারায় যারা ক্ষুদ্র ও মধ্যম পর্যায়ের ব্যবসায়ী তারা ক্ষতির মুখে পড়েছে। এসব ব্যবসায়ীরা ট্রাক ভর্তি করে আম পাঠাতে না পারার কারণে বাগানে কেনা আম পঁচে যাচ্ছে বা স্থানীয় বাজারে খুব কমদামে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে জানান।

আম বাগান মালিক ইব্রাহীম জানান, আমার আমের বাগান আছে। গতবার হতে লকডাইনের কবলে পড়ে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় ছোট খাটো আম ব্যবসায়ীরা বাগান হতে আম ক্রয় করে নিয়ে যেতো। কিন্তু দূরপাল্লার গাড়ী গুলো না যেতে পারায় সেই ব্যবসায়ীর আম ক্রয় করতে আসছেন না বলে জানান। সরকারী ভাবে ডাক বিভাগের গাড়ী গুলোতে আম পাঠানোর ব্যবস্থা থাকলেও নিয়মের নানান জটিলতার কারণে জেলার বাইরে ব্যবসায়ীরা আম পাঠাতে নারাজ।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কে জে এম আব্দুল আউয়াল বলেন, দেশে কৃষি পণ্য সরবরাহের জন্য গাড়ী চলাচলে বাঁধা নেই। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যদি বাজারে ঠিকমত মুভমেন্ট না করতে পারে তাহলে ব্যবসায় ক্ষতি হবে। ছোট ব্যবসায়ীরা নিজেরা বড় গাড়ীতে এসব পণ্য পাঠাতে পারে না। এই ক্ষেত্রে রাজশাহী অঞ্চলের আম হতে যে অর্থনৈতিক অজর্ন না বাঁধা গ্রস্থ হবে বলে মনে করেন।