ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ

জনপদ ডেস্ক: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনসহ সংগঠনের প্রায় ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আমানুল্লাহ আমান।

আহতরা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আমানুল্লাহ আমান বলেন, দুপুর ১২টায় জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণের কর্মসূচি ছিল। সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় খাবার তৈরি করতে একটু দেরি হচ্ছিল। তাই নেতাকর্মীরা টিএসসির ভিতরে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান পিকুলের নেতৃত্বে বহিরাগত অনেক নেতাকর্মীসহ আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় আমাদের ছয়জন গুরুতর আহতসহ প্রায় ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, পিকুলের নেতৃত্বে হামলায় জড়িত ছিলেন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা।

হামলায় জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করে আমির হামজা বলেন, ছাত্রদল সন্ত্রাসী সংগঠন। এরা বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে ঢুকে অরাজকতার চেষ্টা করে। আমরা খবর পেয়েছি আজকেও তারা বড় ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। এ সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আমরা হালকা ‘নাস্তা পানি’ খাইয়েছি।

কী ধরনের অরাজকতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুনি’ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যাম্পাসে মিলাদ মাহফিল, খাবার বিতরণ এগুলোই তো অরাজকতা।

এদিকে এ হামলার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক আমজাদ হোসেন হৃদয়ের গায়ে হাত তুলেছেন আমির হামজা। তবে ঘটনাটি তিনি অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে হৃদয় বলেন, ছাত্রদলের ওপর হামলা শুরু হলে আমি দায়িত্বপালন করতে ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় আমির হামজা আমাকে থাপ্পড় দেন। আমি সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান।

তবে ঘটনাটি অস্বীকার করে আমির হামজা বলেন, আমি কেন তাকে মারতে যাব। আমি তাকে মারিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, এ ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে। হাসপাতালে আমাদের কোনো শিক্ষার্থী আছে কিনা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের মধ্যে যারা এ কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।