এ বছরের মতো শেষ হতে যাচ্ছে গরমের ভোগান্তি!

জনপদ ডেস্কঃ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে মাত্র কয়েক দিন বিরতি দিয়ে জ্যৈষ্ঠের মধ্যভাগে এসে গা-জ্বালা গরম শুরু হয়েছে। ফের তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। দেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তাপপ্রবাহ। তবে গরমের এই ভোগান্তি এ বছরের মতো শেষ হতে চলেছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায়; খুলনা, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, রাঙ্গামাটি, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, রংপুর, খুলনা ও যশোর জেলাসহ সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে যে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবির্তত থাকতে পারে এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং এ ছাড়া দেশের অন্যত্র সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী তিন দিন বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ কক্সবাজারের দিকে ধেয়ে আসছে। এটি কয়েক দিনের মধ্যে টেকনাফ হয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিস্তার লাভ করবে।

আবহাওয়াবিদরা জানান, গ্রীষ্মকালে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে ভূখণ্ডে প্রচণ্ড তাপের কারণে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়, একই সময়ে ভারত মহাসাগর তুলনামূলকভাবে শীতলতর হওয়ায় উচ্চ চাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। ফলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পসহ সাগর থেকে ভূখণ্ডে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয় যা ভারি বৃষ্টিপাত ঘটায়। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু দুই শাখার একটি হলো—আরব সাগর প্রবাহ এবং বঙ্গোপসাগর প্রবাহ। বঙ্গোপসাগরের মৌসুমি বায়ু প্রবাহটি মূলত গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চল ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আবহাওয়ার প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। জুন মাসের শুরুর দিকে এই বায়ুপ্রবাহ বাংলাদেশ দিয়ে ভারতের কেন্দ্র-অঞ্চলের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে।