রোল মডেল নগরীতে অচল ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি

মাসুমা ইসলাম: নানামুখি উন্নয়নে এরই মধ্যে সারাদেশের কাছে একটি রোল মডেল নগরী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে রাজশাহী মহানগরী। ফুলে ফুলে সুসজ্জিত নগরীর প্রসস্থ রাস্তাসহ সবুজের সমারোহে ভরে উঠেছে সমগ্র নগরী। এছাড়াও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, শৈল্পিক কারুকাজ, দৃষ্টিনন্দন আধুনিক সড়কবাতি এবং অত্যাধুনিক সব নাগরিক সুবিধাদিসহ গ্রিন, ক্লিন ও হেলদি শহরে পরিনত হয়েছে এই নগরী। এদিকে নগরীকে পর্যটন নগরীতে রুপ দিতে বিভিন্ন উন্নয়নমুলক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন।

তবে এত সব উন্নয়নের মাঝেও অকেজো হয়ে পড়ে আছে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকা ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলো।

যেহেতু রাজশাহী একটি বিভাগীয় শহর। তাই প্রতিদিনই নানা কাজে শহরে থাকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের পদচারণা। একই সাথে নগরীর ভেতরে বাস, ট্রাক, রিক্সা, অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ছোট -বড় যানবাহনগুলোর সংখ্যাও বাড়ছে ক্রমাগত। ফলে প্রতিনিয়ত যানযট সমস্যা, রাস্তা পারাপারে অসুবিধাসহ অনেক সময় বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় পরতে হচ্ছে নগরবাসীসহ সাধারণ পথচারীদের। অন্যদিকে একই সময়ে রাস্তার মোড়গুলোতে চলাচলরত যানবাহনগুলোর চাপ থাকায় তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশদেরও।


জানা যায়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন সয়ংক্রিয় ভাবে যানচলাচলের গতি নিয়ন্ত্রণে ১৯৯৪-২০০৯ সাল পর্যন্ত ৩ দফায় নগরীর ২০টি বেশি পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করে। তবে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে সেসব সিগন্যাল বাতিগুলো।

১৯৯৪ সালে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়, লক্ষ্মীপুর মোড়, বিন্দুর মোড়, সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, মনিচত্বর ও তালাইমারী মোড়ে, ২০০২ সালে ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে মেডিকেল কলেজ বন্ধগেট, বহরমপুর বাইপাস রোড, কোর্ট স্টেশন মোড়, কাশিয়াডাঙ্গা নতুন রাস্তার মোড় ও কাশিয়াডাঙ্গা পুরাতন সড়ক মোড়ে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়।

এরপর আবার ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মহানগরীর উৎসব সিনেমা হল মোড়, সাগরপাড়া, শিরোইল স্টেশন মোড়, জিয়া শিশুপার্কের সামনের রাস্তার মোড় ও নওদাপাড়ার আমচত্বর মোড়ে স্থাপন করা হয় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। তবে এসব বাতির সবই এখন অকেজো। তাই ট্রাফিক পুলিশদেরও কোন কাজে আসছে না এই বাতিগুলো। হাতের ইশারাতেই যান নিয়ন্ত্রনের কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে নগরবাসী বলেন, সুন্দর রাস্তা, সড়কবাতিসহ অনেক উন্নয়ন হয়েছে নগরীতে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক হয়েছে নগরী। তবে সিগন্যাল বাতিগুলো ঠিক করা জরুরি। প্রায়শই রাস্তায় যানযট দেখা দেয়, রাস্তা পারাপারেও সমস্যা হয়।

এছাড়াও নগরবাসী দাবি করেন সরকার দেশকে ডিজিটাল রুপ বাস্তবায়নে সকল সেক্টরে কাজ করে চলেছে । তাই এই নগরীতে ট্রাফিক সিগন্যালবাতি গুলো অচিরেই সচলের উদ্যোগ নিলে নগরীর উন্নয়নে পরিপূর্ণ‍তা আসবে বলে মনে করেন।

কথা হয় মহানগরীর দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের সাথে। তিনি জানান, নগরীর রাস্তাগুলো যেমন প্রসস্থ করার কাজ চলছে, তেমন করে এবার সিটি কর্পোরেশন যদি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিগন্যাল বাতিগুলো ঠিক করে দেয় তাহলে আমাদের কাজগুলো অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর এভাবে ইশারায় গাড়িগুলোকে নিয়ন্ত্রন করতে ঝামেলা হবে না। এ ক্ষেত্রে পথচারিদের রাস্তায় চলাচলে অনেক সুবিধা হবে বলেও জানান তিনি।

ট্রাফিক সিগন্যাল বাতির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার শারমিন আক্তার জানান, রাস্তায় সিগন্যাল বাতিগুলো সচল থাকলে ট্রাফিক পুলিশদের যানবাহন নিয়স্ত্রনে কাজ করতে সুবিধা হয়। সেই সাথে রাস্তার পথচারিরাও অনেক বেশি উপকৃত হবেন । তবে সিগন্যাল বাতিগুলো পুনরায় চালুর ব্যাপারে কোন উদ্যোগ আছে কিনা তা জানা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের যান্ত্রিক ও বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রেয়াজাত হোসেন বলেন, ট্রাফিক সিগন্যালগুলোর কোনটাই এখন সচল নাই, সবগুলোই অনেক আগের করা ছিল। এগুলো ঠিক করতে হলে আমাদের প্রজেক্ট দাখিল করতে হবে। এটা নিয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে আমরা এখনও কোন নির্দেশনা পাইনি। তাই বর্তমানে এটা নিয়ে কোন পরিকল্পনার কথাও আমার জানা নেই।