মধুমাসে জমে উঠেছে তরুণ উদ্যোক্তাদের অনলাইন আমের ব্যবসা

এম. আব্দুল বাতেন: চলছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। এ মাসে এরই মধ্যে পাকতে শুরু করেছে বিভিন্নি ধরণের ফল। আর এই মধুমাসের অন্যতম জনপ্রিয় একটি সুস্বাদু ফল আম। সারাদেশে আমের রাজ্য হিসেবে খ্যাত রাজশাহী অঞ্চল। তাই আমকে ঘিরে এ অঞ্চলে জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনলাইন আমের ব্যবসা।

বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা এই ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েছে বেশি। লেখাপড়ার পাশাপাশি আম ব্যবসাকে স্মার্ট মনে করায় অনেক শিক্ষার্থী নেমে পড়েছেন এই ব্যবসায়। আর গত বছর হতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষিত বেকার ছাত্ররা যারা টিউশনি ও কোচিং করিয়ে আয় করতো মূলত তারাই জোড়েসোরে এই ব্যবসায় নেমে পড়েছে।

তাদের ব্যবসার কার্যক্রম নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে প্রচার করছে। আবার কেউ কেউ আম বেচাকেনা পেজ খুলে নিজেদের ব্যবসার কাজের ধরন জানিয়ে দিচ্ছে। নেওয়া হচ্ছে অনলাইনে আমের অর্ডার ও দেওয়া হচ্ছে ডেলিভারী।

অনলাইনে গত বছর হতে আমের জমজমাট ব্যবসা করে সফলতা পেয়েছেন এমনি এক তরুণ উদ্যোক্তা হলেন মো: আরিফ। তার বাসা রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায়। লেখাপড়ার পাশাপাশি স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। করোনা মহামারি দেখা দিলে সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে সেও বেকার হয়ে পড়ে। এই সময় বসে না থেকে নিজের তাগিতেই অনলাইনে আমের ব্যবসার বিষয়টি মাথায় আসে।

শুরু করে কয়েকজন সহযোগী মিলে অনলাইনে আমের ব্যবসা। নিজের ফেসবুক ওয়াল হতে আম বিক্রির স্ট্যাটাস দিলে ভালোই সারা পায়। এভাবেই তার ব্যবসার সূত্রপাত হয়। এ বছরেও সে আমের ব্যবসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কথা হয় মো: আরিফের সাথে। তিনি বলেন, আমি একটি কোচিং সেন্টারের সাথে জড়িত ছিলাম। গত বছর সকল কিছু সরকার কর্তৃক বন্ধ করে দিলে এক রকম বেকার হয়ে পড়ি। তাই বসে না থেকে অনলাইনে আমের অর্ডার নেওয়া শুরু করি। প্রথম বছরেই বেশ সারা পাই। আমার উপজেলায় আমি প্রথমে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করলে আমার দেখাদেখি অনেক বন্ধুবান্ধন ও আশেপাশের শিক্ষিত বেকাররাও এই ব্যবসায় এগিয়ে আসে বলে জানান তিনি।

আরিফ জানান, এই বছর প্রথম গত শনিবার (২২ মে) ২২ মন খিরসাপাত আমের অর্ডার ছিলো। আমি তা ঢাকা, চট্রগাম, সিলেট, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়েছি। তবে ঢাকায় অর্ডার বেশী। প্রতিমন আম প্রকারভেদে ১৯০০ হতে ২২০০ টাকা মন বিক্রি করা হচ্ছে। আমরা সরাসরি আমের বাগন হতে আম প্যাকিং করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। কুরিয়ার খরচ ক্রেতারা নিজেরাই পরিশোধ করে থাকে। গ্রাহকরা অধিকাংশই অগ্রিম বিকাশ, নগদ বা অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করে দিচ্ছে। এক সিজনে প্রায় ২ লক্ষ টাকা ব্যবসায় আয় হয় বলে ব্যবসায়ী আরিফ জানান।

আরিফের মতই শিক্ষিত তরুন উদ্যোক্তা আমের ব্যবসায়ী তারিফ, অপু, সজলসহ অনেকেই। তবে এই ব্যবসায় পিছিয়ে নেই নারীরাও। যেসব নারীরা অন্য ব্যবসা করে তারা আমের মৌসুম হওয়াতে এই ব্যবসাটাকে হাত ছাড়া করছেন না। এমনি এক নারী ইসরাত জাহান। নিজের ব্যবসার কথা জানিয়ে আমরা রাজশাহীর উদ্যোক্তা পেজে লিখেছন। “আমি নারী আমিও পারি, মেয়ে মানুষ ইংরেজীতে মাস্টার্স করে আম ব্যবসায়ী কয়েকদিন পর তো রাস্তায় শুটটি বেচবে। এই কয়েকদিন আত্নীয় স্বজর এবং আশে পাশের লোকজন থেকে এমন কথা শুনতে শুনতে মনের ভিতর খুবই ভয় হতো। এখানে জয়েন করেন ওখানে জয়েন করেন কতো কি। আমি শুধু নিরবে আমার চেষ্টা করে গেছি। তবে আল্লাহ পাকের অশেষ শুকরিয়া কেউ সহযোগিতা করুন আর না করুক। আমার একজনই সব সময় সাথে আছে। তার একটাই কথা চাকুরী নয় নিজে কিছু করতে হবে। তাই কিছু করে যাচ্ছি। আস্তে আস্তে স্বপ্নগুলো ধরা দিচ্ছে।

” আরেক ব্যবসায়ী পারভেজ নেওয়াজ তিনি লিখেছন, আজকের ডেলিভারি… (গোপালভোগ) এখন গোপালভোগ এবং সামনে ল্যাংড়া, খিরসাপাত, আম্রপালি, হিমসাগর দেয়া হবে। অর্ডার করতে তিনি তার একটি পেজের লিংক তুলে ধরেন ফেসবুক স্ট্যাটাসে এবং যোগাযোগের জন্য নিজের মোবাইল নং টি দিয়ে দেন।

 এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের পাইকারী বাজার বানেশ্বরে গোপাল ভোগ আম অল্প করে নামতে শুরু করেছে। আর ১ সপ্তাহের মধ্যেই আরও অন্যান্য জাতের আম আসলে বাজার জমজমাট হয়ে উঠবে। গোপাল ভোগ আম সাইজ ভেদে ১৮০০-২২০০ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। আর গুটি আম ৮০০-১২০০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা উম্মে ছালমা জানান, এই বছর রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। আম উৎপাদনে ২ লক্ষ ১৪ হাজার মে.টন ধরা হয়েছে। যেহেতু আমের মৌসুম কেবল শুরু হয়েছে। তবে আশা করা যায় এ লক্ষ মাত্রা এবার ছাড়িয়ে যাবে।