জমজমাট রাজশাহীর আমের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জমে উঠেছে রাজশাহী জেলার বানেশ্বরের আমের বাজার। বাজার জুড়ে শুধু আমের গন্ধে মুখর হয়ে থাকে চারিপাশ। সব ধরনের আমের কেনাবেচা করতে দেখা যায় এই বাজারে। আরও তিন মাসেরমত চলবে এই আমের বেচাকেনা। পাওয়া যাবে প্রায় সব জাতের আম। মোকামগুলো থেকে আম কিনে ঢাকা, সিলেট, চট্রগ্রাম, রংপুর সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া রাজশাহী শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পয়েন্টে আম বিক্রি করে আম বিক্রেতারা। অনলাইনে ব্যবসার জন্য যারা গ্রাহকদের কাছে আম কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠান তারাও বানেশ্বর বাজার থেকে আম কিনে থাকেন।

বানেশ্বর বাজার ঘুরে আমচাষী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে গোপালভোগ জাতের আম প্রায় শেষের দিকে। বর্তমানে বেশি পাওয়া যাচ্ছে লখনা ও গুটি আম। অল্প পরিমাণে উঠেছে হিমসাগর (খিরসাপাত) ও ল্যাংড়া। আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যে ল্যাংড়া ও হিমসাগর আম পুরোদমে বাজারে আসবে। আম গুলো মানভেদে গোপালভোগ পাইকারী বিক্রি হয়েছে দুই হাজার টাকা থেকে ২২০০ টাকা মণ (৪০ কেজি)। লখনা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা মণ, হিমসাগর বা খিরসাপাত ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা, ল্যাংড়া ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা এবং গুটি আম ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা মণ।

রাজশাহীর কাটাখালীর আম ব্যবসায়ী সুরুজ উদ্দিন বলেন, করোনার মধ্যেও আমের পর্যাপ্ত দাম আমরা পাচ্ছি। প্রতিদিন তিন থেকে চার মণ আম বিক্রি করছি কিছু সময় লাগলেও সব আম বিক্রি করতে পারছি। আমরা সরকার কতৃক বেধে দেওয়া সময় মত আম নামিয়েছি যার জন্যে আমের স্বাদটাও ভাল হয়েছে।

আড়ানীর আমচাষী রবিউল ইসলাম বলেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যে আম পুরোদমে বাজারে উঠলে এসব আমের দামও বাড়বে। সকল আম ব্যবসায়ীরা এইবার লাভের মুখ দেখবে বলে এই আমচাষী জানান।

আম ব্যবসায়ী নাসির আলী জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম, বরিশাল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, খুলনা থেকে পাইকারি ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন। এখন প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ-পরিচালক কে জে এম আব্দুল আউয়াল বলেন, রাজশাহীতে এ বছর ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান আছে। গত বছর ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। এবার বাগান বেড়েছে ৩৭৩ হেক্টর জমিতে। এ বছর হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে জেলায় এ বছর মোট দুই লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। রাজশাহী থেকে দেশের অনেক প্রান্তে প্রতিবারের ন্যায় এইবারও পর্যাপ্ত পরিমানে আম পাঠাচ্ছে আমচাষী ও আড়তদারেরা। অনলাইন ই-কমার্সের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তারা আম পাঠাচ্ছে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, গোপালভোগ আম শেষের দিকে। হয়তো বাজারে আর ১\২ দিন আর পাওয়া যেতে পারে। এখন বাজারে উঠতে শুরু করেছে খিরসাপাত, হিমসাগর ও লখনা। আমের দাম ভাল পাওয়ায় আম চাষীরা সবাই আনন্দিত।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে বানেশ্বর হাট এখন বিগত বছর গুলোর চেয়ে বেশি জাকজমক। এদিকে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাগমারা, বাঘা, চারঘাট, নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বেশীর ভাগ আম বিক্রেতাগন আম বিক্রি করতে আসেন বানেশ্বর হাটে।

আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরী দিয়ে বহিরাগত ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহয়তা করা হয়। তিনি আরো জানান, কেবলমাত্র বানেশ্বর বাজার থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আম কেনা-বেচা হয়।